গর্ভবতী বিড়ালের যত্ন

Pregnant Cat Care

প্রথমেই আপনাকে ভাবতে হবে আদৌ আপনি আপনার বিড়ালের বাচ্চা হওয়াতে চান কিনা।।একজন ভাল মানের পেট-প্যারেন্ট না হলে এটি না করাই উত্তম,কারন গর্ভবতী বিড়ালের গর্ভকালীন সময় এবং তার পরবর্তী সময় কিছু বিশেষ  যত্নের প্রয়োজন হয়  যা অনেক সময় সম্ভব হয়না।তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।।

১।বাচ্চা হয়াবেন কিনাঃ

বিড়ালের অতিপ্রজননতা অনেক সময় সমস্যা হয়ে দাড়ায়,তাই অনেক ভেবে এই সিদ্ধান্তটি নেয়া প্রয়োজন।একজন দায়িত্ববান পেট-প্যারেন্ট না হলে বাচ্চা না হয়ানই ভাল।তারপরও যদি আপনার বিড়াল গর্ভবতী হয়ে যায় বা আপনি আগের থেকেই  গর্ভবতী বিরাল পান তাহলে একজন অভিজ্ঞ পালক বা পশুচিকিৎসকের সাহায্য নিন।

Pregnant Cat Care in Bangladesh

২।পশু চিকিৎসা সম্মন্ধিয় যত্নঃ

যদি আপনার বিড়াল কোনোরকম গর্ভাবস্থার লক্ষন প্রকাশ করে কিংবা আপনার সন্দেহ থাকে যে সে গর্ভবতী হতে পারে তাহলে প্রথমেই তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।এটি করার উত্তম সময় হল ৩ সপ্তাহ গর্ভকালীন অবস্থার।তার আগে চিকিৎসক তেমন একটা বুঝতে পারবেন না।তাই এই সময়ে নিয়ে যাওয়ার  ছেস্তা করুন।যদি বিড়ালকে অসুস্থও মনে হয় তারপরেও তাকে দেখিয়ে আনুন এবং চিকিৎসককে বুঝতে দিন জ আপনার বিড়াল গর্ভবতী কিনা।

৩ সপ্তাহ গরভাকালিন সময় আপনার চিকিৎসক বিড়ালের পেট স্পর্শ করে পরিক্ষা  করে বলতে পারবেন সে গর্ভবতী কিনা।যদি সম্ভব হয় উলত্রাসউন্দ ও করা যায়।

গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হয়ার পর আপনার চিকিৎসকের থেকে যত্ন এবং খাবারের বেপারে শব জেনে নিতে হবে।আর তখন থেকেই নবজাতকদের বাসস্থান নিতে ভাবতে হবে।

৪২ দিনের মধ্যে আপনার  চিকিৎসকএক্স রে করতে বলতে পারেন কয়টি বাচ্চা আছে তা দেখার জন্যে। বাচ্চার সংখ্যা জানা থাকলে বিড়ালের বাচ্চা জন্ম দেয়া  শেষ হয়েছে কিনা বা জন্ম দেয়ার মাঝে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা বুঝতে সহয়তা করবে।

কোনরকম টীকা না দেয়াই ভাল কেননা তা বাচ্চার বৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

৩।খাওয়া দাওয়াঃ

এই সময় খাবারের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।হাই কোয়ালিটি ফুদ ফর্মুলা যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তা দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার দিতে হবে যেন খাবারটি বৃদ্ধি আর প্রজনন এর জন্য যথেষ্ট এবং পরিপূর্ণ। এইগুলু সাধারণত কিটেন ফুড। সাধারনত বেজা খাবার শুকনো খাবার থেকে ভাল তারপরও যদি আপনি শুকনো খাবার দিতে ছান তাহলে যেটিতে সবচেয়ে বেশি উপাদান থাকে সেটা নির্বাচন করুন।

বেশি খাওয়া যেন না হয়ে যায় তারদিকে খেয়াল রাখতে হবে।অবশই এই সময় তার বাড়তি পুষটি দরকার কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া তার এবং বাচ্চা দুইজনেরই ক্ষতি করতে পারে।কিটেন ফুডে এমনিই বেশি পুষ্টিকর উপাদান থাকে ,তাই পরিমিত পরিমান দেয়ার চেষ্টা করবেন।প্রথমদিকে খাবার পরিবর্তন হয়ার কারন কম খেতে পারে এটি নিয়ে চিন্তিত হবেন না। অভস্থ হয়ে গেলে এমনিতেই খাবে।পেটে বাচ্চা থাকার কারনেও কম খেতে পারে তাই অতিরিক্ত জোর করবেন না।অল্প অল্প করে বারবার দিন।সাথে সাথে তার সাস্থের প্রতি খেয়াল রাখুন কোন সমস্যা মনে হলেই অতি দ্রুত চিতিকশকের কাছে নিন।

গর্ভাবস্থার ৬ সপ্তাহে এসে খাবার পরিমান আরো কমে জায় কারন এই সময় তার পেটের ভার বেরে যায় আর খাবার খাওয়া কষ্টকর হয়ে জায়,তাই ৪/৫ বার খাবার দিন অল্প অল্প পরিমানে।

৪। পরিবেশের দিকে নজর দিনঃ

সামান্য কিছু পরিচরচা  এবং খাবারের পরিবরতন ছাড়া বিরালের তেমন কিছু প্রয়োজন হয়না। কিন্তু যতই প্রসবের দিন কাছে আসতে থাকে সে তত নিরাপদ,শান্ত জায়গা খুজতে থাকে জন্ম দেয়ার জন্য।এতি সে করে সাধারনত প্রসবের ২/৩ দিন আগে থেকে।

পিচবোর্ডের বক্স বা লন্ড্রি বাস্কেট এর মধ্যে কম্বল দিয়ে সেটি একটি নিরাপদ আর শান্ত জায়গায় রেখে দিন।কিন্তু এটি আপনার বিড়াল বেবহার করবেই তার কোন নিসচইওতা নেই। কারন বেশিরবাগ সময়ই যে তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে,এমন কোন জায়গাও সে নিরধারন করতে পারে যা আপনি ভাবেন নি,তাই আপনার ঘরের এমন কোন অংশ যদি থেকে থাকে জেইখানে আপনি চান না জ প্রসব করুক তাহলে সে জায়গা গুলু বন্ধ করে দিন।আরেকটা  দিক অবসশই খেয়াল রাখতে হবে যে বিড়াল যেন বাইরের না যেতে পারে,তাতে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে ,সে হত জায়গা খুজতে খুজতে এমন কোথাও চলে গিয়েছে যেখান থেকে সে আর ফিরতে পারছে না আর আপনি চিনেন না।

এই সময়টায় বিড়াল উদ্বিগ্ন ও অস্থির হয়ে থাকে এইটি নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই।যতটা সম্ভব সাথে সাচ্ছন্দ বোধ করান এবং তাকে তার মত থাকতে দিন।আপ্না আপনি ঠিক হয়ে যাবে

       ৫। প্রসবের সময় করনীয়ঃ

              যখন আপনার বিরাল প্রসবের জায়গা বেছে নিবে তখন তাকে একা ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়।তাকে একটি নিরাপদ দূরত্ব থেকে খেয়াল রাখুন।সাধারনত বিরালের বিড়ালের তেমন কোন সাহায্যের দরকার হয়না।তারপরেও মাঝে মাঝে দরকার পরতে পারে যদি কোন অসশ্তহি থাকে

জন্ম দেয়ার মাঝের সময়টার খেয়াল রাখুন আর হিসাব রাখুন যে যতগুলু বাচ্চা হয়ার কথা তার হিসাব থিক আছে কিনা।  যদি সংকোচন ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে কোন বাচ্চা প্রসব ছাড়া তাহলে দ্রুত চিতিকশকের  শরণাপন্ন হন। দুইটি বাচ্চা জন্মের মাঝের সময় যদি ২ ঘণ্টার বেশি হয়  বা বাচ্চা যদি আটকে যায় ১ মিনিটের বেশি সময় তাহলেও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া কোন সমস্যা বোধ করলেই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

      নতুন মা বিড়ালকে প্রসবের একদিনের মধ্যের পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। মা এবং নবজাতককে আলাদা করবেন না একদমই প্রথম কিছুদিন, ওদের অ মা বিড়ালের সাথে নিয়ে যাবেন।যদি আপনি বিড়ালের ডিম্বাশয় ফেলে দিতে চান তাহলে এখনি কথা বলে রাখুন চিকিৎসক জানিয়ে দিবেন আপনি কখন করাতে পারবেন।এতি মাই ছাড়ানোর পর করান হয় সাধারনত।।

আর সর্বোপরি যেকোনো সমস্যা হলে বা অসুস্থতার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন,কারন তারা আপনার বিড়ালকে পরীক্ষা করে সব কথা যেনে সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা এবং উপদেশ দেন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are makes.

error: Content is protected !!